মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

পত্রপত্রিকা

দিগদর্শন (১৮১৮)[সম্পাদনা]

দিগদর্শন প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র। শ্রীরামপুর মিশনের উদ্যোগে শ্রীরামপুর থেকে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রথম এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। চার পৃষ্ঠার পত্রিকাটি ছিল বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক পত্রিকা। এখানে বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ একসঙ্গে প্রকাশিত হত। শ্রীরামপুরের সাংবাদিকেরা একটি নিজস্ব ভাষারীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।[১] এটি ছিল মাসিক পত্রিকা এবং এখানে ছাত্রদের উপযোগী ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞান সংক্রান্ত নানা রচনা থাকত।

বেঙ্গল গেজেট[সম্পাদনা]

গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১২২৫ বঙ্গাব্দ, জুন (?) ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ।

বেঙ্গল গেজেটি বাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।[২] ১৮১৮ সালের মে মাসে শ্রীরামপুর মিশনারিদের দ্বারা প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ এর প্রায় সমসাময়িক সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে বেঙ্গল গেজেট প্রকাশিত হয়। এখন পর্যন্ত বেঙ্গল গেজেট-এর কোনো সংখ্যা পাওয়া যায় নি, তাই এর সঠিক প্রকাশকাল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে ১৪ মে ১৮১৮ সালে প্রকাশিত গভর্নমেন্ট গেজেট এর একটি বিজ্ঞাপন থেকে এ ধরনের প্রকাশনার প্রস্ত্ততি সম্পর্কে জানা গেছে। ১ জুলাই ১৮১৮ সালের প্রকাশিত আর একটি বিজ্ঞাপন থেকে জানা যায় যে, সাপ্তাহিকটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বিজ্ঞাপনই প্রকাশিত হয়েছিল হরচন্দ্র রায়-এর নামে। তবে ১৮২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত The Friend of India ও ১৮৩১ সালের ১১ জুন প্রকাশিত সমাচার দর্পণ পত্রিকা দুটির প্রতিবেদনে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যকে বেঙ্গল গেজেট-এর প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গঙ্গা কিশোর ছিলেন শ্রীরামপুরের নিকটবর্তী বহেরা গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শ্রীরামপুর মিশন প্রেসএ একজন কম্পোজিটর হিসেবে। পরবর্তীসময়ে তিনি কলকাতায় এসে নিজে বাংলা বইয়ের প্রকাশনা শুরু করেন। এমনকি ১৮১৮ সালে নিজে ‘বেঙ্গল গেজেট প্রেস’ নামে একটি ছাপাখানাও প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা হরচন্দ্র রায় সম্ভবত তাঁর ছাপাখানার অংশীদার ছিলেন।

উপরোল্লিখিত বিজ্ঞাপন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বেঙ্গল গেজেট-এ সুন্দর, সংক্ষিপ্ত এবং শুদ্ধ বাংলা ভাষায় বেসামরিক নিয়োগের অনুবাদসমূহ, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা প্রভৃতি এবং পাঠকদের নিকট আকর্ষণীয় এমন অন্যান্য স্থানীয় বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হতো। পত্রিকার মাসিক চাঁদার হার ছিল দুই রুপি। পত্রিকাটি সম্ভবত এক বছর স্থায়ী হয়েছিল। [ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী]

 
সমাচার দর্পণ প্রত্রিকা

সমাচার দর্পণ[সম্পাদনা]

সমাচার দর্পণ (১৮১৮-১৮৫২) শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। পত্রিকাটিতে যেসব সংবাদ ছাপান হতো-ক. জজ, কালেক্টর ও অন্য রাজকর্মচারীদের নিয়োগ, খ. ইংল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে আগত সংবাদ এবং দেশের নানা সমাচার গ. বাণিজ্যবিষয়ক নতুন সংবাদ, ঘ. জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যুবিষয়ক সংবাদ, ঙ. ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস, পন্ডিতলোক এবং বইয়ের বিবরণ, চ. গভর্ণর কর্তৃক জারিকৃত আইন ও হুকুম প্রভৃতির বিবরণ, ছ. ইউরোপিয়দের রচিত বই থেকে এবং ইংল্যান্ড হতে আসা বইয়ের শিল্প ও কলকারখানার বিবরণ।[৩]

সমাচার দর্পণ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রথম পূষ্ঠা প্রতিলিপি প্রথম পর্যায় (১৮১৮-১৮৪১) ১৮১৮ সালের ২৩ মে (১০ জ্যৈষ্ঠ, ১২২৫) শনিবার সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়। পত্রিকাটির মূল্য ছিল মাসিক দেড় টাকা। ১৮১৮ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৮২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পত্রিকাটিতে নিম্নলিখিত শে­াকটি বিদ্যমান ছিল:

দর্পণে মুখ সৌন্দয্যমির কায্যবিচক্ষণা:।

বৃত্তান্তানিহ জানমত্ত সমাচারস্য দর্পণে \

পত্রিকাটির সম্পাদনার ভার মূলত দেশিয় পন্ডিতগণের ওপর পুরোপুরিভাবে ন্যস্ত ছিল। পন্ডিতগণ অনুপস্থিত থাকলে পত্রিকাটিতে নতুন সংবাদ প্রকাশ বন্ধ থাকতো। সমাচার দর্পণের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। ১৮২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক পদে যোগদান করলে পন্ডিত তারিণীচরণ চার বৎসর সমাচার দর্পণ সম্পাদনে সহায়তা করেন। যারা বাংলা ভাষা জ্ঞাত নন তাদের জন্য ৬ মে ১৮২৬ তারিখে শ্রীরামপুর হতে সমাচার দর্পণের ফার্সি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। উক্ত ফার্সি সাপ্তাহিক সংস্করণের নাম আত্থবারে শ্রীরামপুর যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই এদেশের লোকদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শিখবার সাড়া পড়ে যায় একারণে শ্রীরামপুর মিশন ১৮২৯ সাল হতে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করার ব্যবস্থা করে। ১৮৩২ সাল হতে সপ্তাহে দুবার প্রকাশ আবশ্যকবোধ হলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ জানুয়ারি বুধবার। ১৮৪০ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পাদকের ওপর নতুন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র গবর্ণমেন্ট গেজেট সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হওয়ার কারণে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৪১ তারিখে সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

দ্বিতীয় পর্যায় (১৮৪২-৪৩) এ পর্যায়ে পত্রিকাটি ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় ১৮৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতার দেশিয় সম্পাদক ভগবতীচরণ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পত্রিকাটি অল্পদিন চলেছিল।

তৃতীয় পর্যায় (১৮৫১-৫২) এ পর্যায়ে পত্রিকাটি দেড় বছর চলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ১৮১৮ সাল হতে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত সমাচার দর্পণে মূদ্রিত সব সংবাদ বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ কর্তৃক দু’খন্ডে প্রকাশিত সংবাদপত্রে সেকালের কথা (১ম খন্ড-১৩৩৯, ২য় খন্ড-১৩৪

 

 

রোয়াংছড়ি উপজেলা হতে কোন পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয় না।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :
Facebook Twitter