মেনু নির্বাচন করুন

পাহাড় ও নদী

পার্বত্য চট্টগ্রাম (Chittagong Hill Tracts)  দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাপক পাহাড়ি অঞ্চল (২১°২৫´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩°৪৫´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°৫৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৫০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)। এর দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমার, উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মিজোরাম এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা অবস্থিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের এলাকা প্রায় ২৩,১৮৪ বর্গ কিমি যা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় এক দশমাংশ।

ইতিহাস  বঙ্গের প্রথম প্রকাশিত মানচিত্রে ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এই অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। অবশ্য এর অনেক আগে ৯৫৩ সালে আরাকানের এক রাজা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান জেলাসমূহ ও চট্টগ্রাম দখল করেন। পরবর্তীতে ১২৪০ সালে ত্রিপুরার রাজা এই অঞ্চল দখল করেন। আরাকানের রাজা ১৫৭৫ সালে জেলাগুলো পুনরায় দখল করে নেন এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত দখল বজায় রাখেন। প্রকৃত প্রস্তাবে পার্বত্য ত্রিপুরা ও আরাকানের শাসকদের মধ্যেই এই অঞ্চলের মালিকানার দ্রুত হাতবদল হতে থাকে।  মুগলরা ১৬৬৬ থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে। ১৭৬০ সালে এলাকাটির কর্তৃত্ব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়। ব্রিটিশরা ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল করে একে ব্রিটিশ ভারতের অংশে পরিণত করে। তারা এর নামকরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম (চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস)। ব্রিটিশরা পার্বত্য  চট্টগ্রামকে চট্টগ্রামের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করে। দক্ষিণের পাহাড় পার্বত্য আরাকান ও উত্তরের পাহাড় পার্বত্য ত্রিপুরা রূপে পরিচিত হয়। প্রশাসনিকভাবে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বঙ্গ প্রদেশের অধীনে নিয়ে আসে। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিতে হেডম্যান ও প্রধানদের নেতৃত্বে কর আদায়ের একটি স্থানীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের এখতিয়ারে  আসে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশের অধিভুক্ত হয় এবং এখানে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সূচীত হয়। আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র  জেলায় বিভক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-র সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ঐ অঞ্চলে দুই দশকব্যাপী সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের মাধ্যমে শান্তি স্থাপনে সহায়ক হয়।

জলবায়ু  এখানকার আবহাওয়া ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উত্তর ও পূর্বে ২৫৪০ মিমি এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে ২৫৪০ মিমি থেকে ৩৮১০ মিমি। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীত ঋতু। এপ্রিল থেকে মে সময়টা প্রাক-বর্ষা মৌসুম। এটি খুবই গরম ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল। বর্ষা মৌসুম জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এ সময়টা গরম, মেঘলা ও আর্দ্র।

মৃত্তিকা  পাহাড়ের মাটি ডিসট্রিক ক্যামবিসলস (dystric cambisols) প্রধানত হলদে বাদামি থেকে লালচে-বাদামি, দো-অাঁশ মাটি। ভিন্ন ভিন্ন গভীরতায় এগুলো ভগ্ন কর্দম শিলা, বেলেপাথর এবং কর্বুরিত (mottled) বালির স্তরে বিভক্ত। এই মাটি বেশি মাত্রায় অম্লধর্মী।

গাছপালা  পাহাড়ি ভূমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত। তবে প্রাকৃতিক উদ্ভিদাদি প্রচুর জন্মে। পাহাড়ি ঢালে জুম চাষের প্রয়াস চলছে। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকার সমতলভূমিতে তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজের চাষ হচ্ছে।


Share with :
Facebook Twitter